[email protected] বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় উদ্ঘাটনের উদ্যোগে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

এ কার্যক্রমের আওতায় কবর থেকে উত্তোলনযোগ্য ১১৪টি মরদেহের মধ্যে ইতোমধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

 

সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিম বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে এই শনাক্তকরণ সম্পন্ন করেছে।

 

গত ৭ ডিসেম্বর থেকে মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তকরণ কার্যক্রম শুরু হয়। শনাক্ত হওয়া শহীদরা হলেন—ফয়সল সরকার, পারভেজ বেপারী, রফিকুল ইসলাম (৫২), মাহিম, সোহেল রানা, আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন এবং রফিকুল ইসলাম (২৯)।


সিআইডি সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নিহত একাধিক নারী ও পুরুষের অজ্ঞাতনামা মরদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে এসব শহীদের পরিচয় নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এই কার্যক্রমের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশকে। মানবাধিকার ও মানবিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ডা. মরিস টিডবল-বিনজকে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বাংলাদেশে এসে সিআইডির ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল ফরেনসিক টিমকে দুই দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেন।


শহীদদের মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী মোট ১১৪টি মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


ইউএনএইচআরসির সহায়তায় আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডেব্রিডার–এর নেতৃত্বে এবং মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ করে পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। পাশাপাশি সিআইডির ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

এ পর্যন্ত অজ্ঞাত শহীদদের স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পুরো প্রক্রিয়া আইন, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে নিখোঁজ শহীদদের পরিচয় নির্ধারণ, পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূরীকরণ এবং ভবিষ্যৎ বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর