[email protected] শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০ পৌষ ১৪৩২

মঙ্গলবার থেকে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৭ এএম

সংগৃহীত ছবি

দেশজুড়ে আজও ঘন কুয়াশার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

অনেক এলাকায় সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষ মাসের কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়ার দাপটে দুর্ভোগ চরমে। টানা কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত ২১টি জেলা এর কবলে পড়ে।


এর মধ্যেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও ৬ জানুয়ারি থেকে আবারও শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে। ওই সময় থেকে দেশের কিছু এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার (৩ জানুয়ারি) রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। জানুয়ারি মাসজুড়েই তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম জানান, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার এবং এক থেকে দুটি হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র পর্যায়ের, যেখানে তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রিতে নেমে আসতে পারে।
এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনও একই তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত চার দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে।


দীর্ঘস্থায়ী শীতের কারণে শহর ও গ্রামাঞ্চলে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে সড়ক-মহাসড়ক, যার প্রভাব পড়ছে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগে। গতকাল সকালে কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নয়টি ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়।


আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, গত তিন দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বর্তমানে সাতটি জেলায় এর প্রভাব রয়েছে। ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবারও শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে এবং কিছু অঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে।

 


আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় তা সাময়িকভাবে কমতেও পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।


পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। চালকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


বর্তমানে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি লঘুচাপ বিরাজ করছে। আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়ে শীতের দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর