[email protected] শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
২ মাঘ ১৪৩২

শিশুসাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৪ এএম

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হলো।

প্রখ্যাত ছড়াকার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক সুকুমার বড়ুয়া আর নেই।

শনিবার ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকার জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শুধু একজন লেখকের মৃত্যু নয়, তাঁর প্রয়াণ মানে শিশুদের কল্পনার জগতে জ্বলে থাকা এক কোমল আলোর নিভে যাওয়া।

যাঁর লেখায় শিশুমন পেয়েছে আনন্দ, স্বপ্ন আর মানবিকতার পাঠ—তাঁর বিদায় আমাদের সাহিত্যভুবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।


সুকুমার বড়ুয়া বিশ্বাস করতেন, শিশু পাঠক কখনোই ছোট নয়; বরং তারাই সবচেয়ে সংবেদনশীল ও সত্যনিষ্ঠ পাঠক।

সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি নির্মাণ করেছেন এমন সাহিত্য, যেখানে উপদেশের ভার নেই, আছে সহজ ভাষা, মমতা আর ভাবনার স্বাধীনতা।

তাঁর রচনায় শেখানো হয়েছে কেবল পড়তে নয়—ভাবতে, অনুভব করতে এবং মানুষ হতে।

বাংলাদেশের শিশুসাহিত্যের ধারায় তিনি ছিলেন এক অনন্য কণ্ঠস্বর। গল্প ও ছড়ায় তিনি বেছে নিয়েছিলেন সরলতা, স্বচ্ছতা এবং আনন্দের পথ। শিক্ষা তাঁর লেখায় কখনো ভয় হয়ে আসেনি, বরং খেলাচ্ছলে ধরা দিয়েছে জীবনের পাঠ হিসেবে।


আজকের দ্রুত বদলে যাওয়া সময়ে, যখন শিশুসাহিত্য অনেকাংশে বাজারনির্ভর হয়ে উঠছে, তখন সুকুমার বড়ুয়ার মতো লেখকের চলে যাওয়া আরও বেশি বেদনাদায়ক।

তাঁর প্রয়াণ আমাদের ভাবতে বাধ্য করে—আমরা কি জীবদ্দশায় আমাদের সাহিত্যিকদের যথেষ্ট মূল্যায়ন করতে পেরেছি? তাঁদের কাজ নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ও পুনঃপাঠের পরিসর কি যথাযথভাবে তৈরি হয়েছে?


সুকুমার বড়ুয়ার সাহিত্য মনে করিয়ে দেয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শিশুমনের কল্পনা ও মূল্যবোধে। তাই শিশুসাহিত্য কখনোই ছোট কোনো শাখা নয়—এটি সমাজ ও সভ্যতার ভিত নির্মাণের নীরব অথচ শক্তিশালী মাধ্যম।


তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর লেখা বেঁচে থাকবে—কোনো শিশুর প্রথম পড়া বইয়ে, কোনো পাঠকের শৈশবস্মৃতিতে, কিংবা ভাষার প্রতি ভালোবাসা জাগানোর উৎস হয়ে। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই সাহিত্য নতুন প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়া, যাতে এই আলোকিত পথচলা থেমে না যায়।


শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়— একজন প্রকৃত শিশুসাহিত্যিককে বিদায়।
শিশুদের কল্পনার আকাশ আজ কিছুটা নীরব।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর