সরকারি মালিকানাধীন স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি
লিমিটেডের (এসএওসিএল) প্রায় দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুদকের মানিলন্ডারিং শাখার উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ।
মামলার আসামিরা হলেন— এসএওসিএলের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৭), হিসাব বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক ও ডিপো ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহমুদুল হক (৪৫), গোল্ডেন সিফাত এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গিয়াস (৪৬), আজহার টেলিকমের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল রানা (৪৪) এবং মেসার্স মদিনা কোয়ালিটির মালিক মো. মাসুদ মিয়া (৫১)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোম্পানির হিসাব থেকে বিভিন্ন কৌশলে প্রায় দুই কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এসএওসিএলের এলসি-সংক্রান্ত লেনদেনের নামে প্রকৃত সরবরাহকারীর পরিবর্তে ভুয়া ও সংশ্লিষ্টতাহীন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চেক ইস্যু করা হয়। পরে এসব চেকের অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেওয়া বা নগদে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো এলসি খোলা হয়নি এবং এসব লেনদেন কোম্পানির জেভি-০৮ বা জেনারেল লেজারেও অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাঁচটি চেকের মধ্যে তিনটির অর্থ গোল্ডেন সিফাত এন্টারপ্রাইজ, আজহার টেলিকম ও মদিনা কোয়ালিটির ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। বাকি দুটি চেকের টাকা নগদে তোলা হয়। চেক জমাদানকারী হিসেবে একাধিকবার আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট ভাউচারে নিরীক্ষা বিভাগের স্বাক্ষর না থাকাও গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
দুদক জানায়, ঘটনার সঙ্গে এসএওসিএলের সাবেক পরিচালক মঈন উদ্দিন আহমেদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য মিললেও তিনি গত ২৬ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা সম্ভব হয়নি।
এসআর
মন্তব্য করুন: