[email protected] সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্ত প্রতিবেদন

দলগতভাবে জড়িত আ. লীগ, মূল সমন্বয়ক তাপস: তদন্ত কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১০:২৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত গণহত্যা ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে।

রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান এবং অন্যান্য সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদনটি তুলে দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), যুগ্মসচিব (অব.) মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ডিআইজি (অব.) ড. এম আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

‘জাতি অন্ধকারে ছিল, সত্য উদ্‌ঘাটন হয়েছে’—প্রধান উপদেষ্টা

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,

“বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতি দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় ছিল। কমিশন যে সত্য তুলে ধরেছে তা ইতিহাসের প্রশ্নগুলোর সমাধান দেবে। এই প্রতিবেদন জাতির জন্য মূল্যবান দলিল হয়ে থাকবে।”

১৬ বছর আগের ঘটনার আলামত নষ্ট—কমিশন প্রধান

কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান জানান, তদন্তকে নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন,

“১৬ বছর আগের ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে আমরা অনেক প্রমাণ-আলামত ক্ষতিগ্রস্ত দেখতে পাই। অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। তবুও সাক্ষীদের দীর্ঘসময় ধরে বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং সব তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে।”

তদন্তে উঠে এলো দলীয় সম্পৃক্ততা

জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কমিশনের মতে:

  • তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের দলগতভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
  • ঘটনার মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।
  • স্থানীয় আওয়ামী লীগ ঘটনাটির পর জড়িতদের রক্ষায় সরাসরি ভূমিকা রাখে। তারা ২০–২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢোকে এবং বের হওয়ার সময় সেই সংখ্যা দুই শতাধিক হয়ে যায়।
  • তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল—এমনটিও উল্লেখ করেছেন কমিশন সদস্যরা।

রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতা

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে—

  • সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
  • পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
  • কয়েকটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া অপেশাদার আচরণ করেছে।
  • যেসব বিডিআর সদস্য যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) বৈঠক করেছিলেন, তাদের পরিচয় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।

ভবিষ্যতের জন্য সুপারিশ

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীসমূহের কাঠামোগত সংস্কার, শৃঙ্খলা জোরদার এবং ভিকটিম পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন। 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর