[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

কদমতলী সংঘর্ষে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ সাব্বির : মহিউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬ ১০:৫২ পিএম

রাজধানীর কদমতলী শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের ভাগিনা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বিরকে পরিকল্পিতভাবে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য এর পক্ষ থেকে  ঢাকা-৪ এর সদস্য সচিব মোঃ মহিউদ্দিন দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রকৃত আসামিদের এখনো গ্রেফতার করা হয়নি।

রাজধানীর কদমতলী শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের ভাগিনা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বিরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তিকর এবং ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্য ও জামাতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতাকর্মী, পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মো. মহিউদ্দিন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কদমতলী এলাকার চিহ্নিত দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ চলে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনাটিও সেই বিরোধের ধারাবাহিকতা বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষের একজন হাসান, পিতা আবদুল মান্নান এবং অপরপক্ষ সাজিদুর রহমান মাহিম, যিনি স্থানীয়ভাবে “শুটার মাহিম” নামে পরিচিত। তাদের দুজনকেই তিনি “ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর” বলে উল্লেখ করেন। বর্তমানে সরকারি দলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

মো. মহিউদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পিতভাবে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে তার ভাগিনা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বিরকে এই ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, জয়নুল আবেদীন সংসদ সদস্য হওয়ার পর এলাকায় তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার দিন আসাদুজ্জামান সাব্বির এলাকায় উপস্থিত থাকলেও সংঘর্ষ বা হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তিনি বর্তমানে তার কর্মস্থল থেকে ছুটিতে ছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পেজ ও প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কিছু পেজ ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মহিউদ্দিন আরো বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

মো. মহিউদ্দিন অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় প্রশাসন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, “প্রকৃত অভিযুক্তরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে টার্গেট করে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে আমাদের কাছে পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেই মনে হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান সাব্বিরের মুক্তির আবেদন জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ও মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান বক্তারা।

তারা বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হোক এবং নির্দোষ কাউকে হয়রানি না করা হোক। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

 
 

এসআর

সম্পর্কিত খবর