সম্প্রতি পরিবর্তিত ইউনিফর্ম নিয়ে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অনেকেই নতুন পোশাকের রং ও নকশা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করে আগের খাকি পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ইউনিফর্ম নিয়ে সমালোচনা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও পরিস্থিতিকে আরও বিব্রতকর করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠনের উদ্বেগ- এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে নেওয়া পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের খাকি ইউনিফর্ম বাহিনীর ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন পোশাক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামত ও বাস্তব পরিবেশগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে অন্যান্য বাহিনীর ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে দ্রুত চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হয়।
ব্যয় ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন- সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এ ব্যয় বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, এ অর্থ আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানোর কাজে ব্যয় করলে বেশি ফলপ্রসূ হবে।
পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাহিনীর কার্যকারিতা বাড়াতে পোশাকের রং পরিবর্তনের চেয়ে সদস্যদের মনোবল, পেশাদারিত্ব ও মানসিকতার উন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পুনর্বিবেচনার আহ্বান-
সংগঠনটি ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এ বিষয়ে আরও গবেষণা, জনমত যাচাই এবং মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মতামত নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে ঐতিহ্য ও বাস্তবতার সমন্বয়ই এখন সবচেয়ে জরুরি।
এসআর
মন্তব্য করুন: