রাজধানীর রামপুরায় জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গুলি ও হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আগামী ৪ মার্চ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল এ দিন ধার্য করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার আছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তাকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আদালতে হাজির করা হয়।
চঞ্চল চন্দ্র সরকারের আইনজীবী এরশাদুল হক বাবু জানান, যুক্তিতর্কে তার মক্কেলের পক্ষে সব তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে খালাস প্রার্থনা করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি দণ্ডিত হবেন না।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তাদের মধ্যে চারজন পলাতক। পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি পরিচালনা করছেন।
এর আগে ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে এবং সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করে। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তার আগে ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। অভিযোগ আছে, পুলিশ ধাওয়া করলে তিনি ভবনের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। এ সময় গুলিবর্ষণে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: