রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় নির্বাচনী দায়িত্বে অর্থের বিনিময়ে কয়েকশ’ ব্যক্তিকে যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক আনসার দলনেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
বুধবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগের দিন, বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়—দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে নির্বাচনী কাজে রাখা হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হাতিরঝিল থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নেতা মামুনের বিরুদ্ধে জনপ্রতি ৪০০ টাকা নিয়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণ ছাড়াই ৩৩০ জনকে নির্বাচনী দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে দায়িত্ব নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে জনপ্রতি আরও ১ হাজার ১০০ টাকা নেওয়ার তথ্যও উঠে আসে। বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত দলনেতা বর্তমানে পলাতক; তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে।
একই ধরনের অভিযোগ চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায়ও পাওয়া যায়। সেখানে ১৩ জন প্রশিক্ষণবিহীন ব্যক্তি দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলে। তাদেরও দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোসাম্মত শাহনাজ সুলতানা এবং ভাটারা থানার ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের দলনেত্রী সামসুন্নাহারের বিরুদ্ধেও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তিরা যাতে কোনো কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বৈঠকও করেছে।
ডিবির এক সহকারী পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পর্যায়ের কর্মকর্তা জানান, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সারা দেশে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ১ হাজার ১৯১টি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং ফোর্স টিম মাঠে থাকবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: