[email protected] শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৩ মাঘ ১৪৩২

আশুলিয়ার সাত হত্যাকাণ্ড: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৩:১৯ পিএম

সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের জুলাই–আগস্ট গণআন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আরও আট আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারিক বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

ট্রাইব্যুনাল-২ গঠনের পর এটি প্রথম ঘোষিত রায়, যা বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মামলায় গ্রেপ্তার থাকা আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।

তাঁদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী ও মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক এবং কনস্টেবল মুকুল।


অন্যদিকে, পলাতক আট আসামির তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন এবং আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি।

এ ছাড়া আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে।


মামলার নথি অনুযায়ী, গণআন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে সাতজন নিহত হন। পরবর্তীতে তাঁদের মরদেহ একটি ভ্যানে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।


গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বিচার চলাকালে গ্রেপ্তার থাকা আট আসামির মধ্যে সাতজন অভিযোগ অস্বীকার করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।


প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২ জুলাই ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্য-উপাত্ত, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত ছিল। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।


রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, এমন নির্মম ও অমানবিক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান লক্ষ্য। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রায়ের মাধ্যমে শহীদদের পরিবার ও বিচারপ্রত্যাশী জনগণের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে।

একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর