২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শেষ দিনে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার
ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই রায় পাঠ শুরু হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রায়ের পুরো কার্যক্রম সরকারি টেলিভিশন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
বিচারিক প্যানেল ও আসামিপক্ষ
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই রায় ঘোষণা চলছে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এই মামলায় মোট ৮ জন আসামির মধ্যে ৪ জন কারাগারে এবং ৪ জন পলাতক রয়েছেন।
কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন:
মো. আরশাদ হোসেন (তৎকালীন পরিদর্শক-অপারেশন, শাহবাগ থানা)
কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া
কনস্টেবল মো. ইমাজ হোসেন ইমন
কনস্টেবল মো. নাসিরুল ইসলাম
পলাতক আসামিরা হলেন:
হাবিবুর রহমান (ডিএমপির সাবেক কমিশনার)
সুদীপ কুমার চক্রবর্তী (সাবেক যুগ্ম কমিশনার)
শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার)
মোহাম্মদ ইমরুল (সাবেক সহকারী কমিশনার)
মামলার প্রেক্ষাপট ও দাবি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে ছয়জন নিহতের ঘটনায় এই মামলা দায়ের করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ (প্রসিকিউশন) আট আসামির বিরুদ্ধেই আনা অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ থেকে সকল আসামির খালাস চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরবর্তীতে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় আজকের দিন ধার্য করা হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এই দ্বিতীয় রায়কে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পুরো এলাকা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে এখনো রায় পড়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: