কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিচারকদের প্রতি কঠোর বার্তা
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে কর্মঘণ্টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেসবুকসহ কোনো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ নেই। এ নির্দেশ অমান্য হলে সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অভিভাষণে দেশের সব জেলা ও মহানগর পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। সেখানে তিনি আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বিচারিক সততা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
প্রধান বিচারপতি জানান, বিচার বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর থাকবে। কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর মূল্য দিতে হবে। তিনি বলেন, বিচারকদের সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে—এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি মামলার শুনানি শেষে অল্প সময়ের মধ্যে রায় বা আদেশ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তার মতে, অযথা বিলম্ব হলে বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েন এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যায়। তাই আদালতের নির্ধারিত সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আইনজীবী ও মামলার সংশ্লিষ্ট পক্ষ ছাড়া অন্য কেউ যেন এজলাসে প্রবেশ না করে। কোর্ট এলাকায় হকার বা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের উপস্থিতিও নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের ড্রেসকোড মেনে চলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, অধস্তন আদালতের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, যার মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: