.
টোকিওতে বিদেশি বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাপানিদের প্রতিবাদ
টোকিও, ২৯ আগস্ট:
বিদেশি নাগরিকদের ভিসা নীতিতে বৈষম্যমূলক পরিবর্তনের প্রতিবাদে আজ টোকিও ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন একদল জাপানি নাগরিক।
প্রতিবাদকারীরা বিদেশিদের প্রতি ‘ইজিমে’ (তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা বিদ্রূপ) বন্ধ করা, নামবিনধারীদের ভিসা প্রদান, এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক গঠনের দাবি জানান। তারা বলেন, বর্তমান নীতিমালা বিদেশি নাগরিকদের প্রতি অসহিষ্ণুতা বাড়াতে পারে এবং জাপানের বহুজাতিক সমাজ গঠনের বিপরীতমুখী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রতিবাদ সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও অভিবাসন নীতির বর্তমান প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
এদিকে, জাপান সরকার সম্প্রতি ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা (বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট) ভিসার ন্যূনতম বিনিয়োগের পরিমাণ ছয় গুণ বাড়িয়ে ৩০ মিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার মার্কিন ডলার) নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। নতুন নীতিমালায় অন্তত একজন পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগের শর্তও যুক্ত হচ্ছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, পরিবর্তনগুলো ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে।
এই পদক্ষেপের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। উচ্চ কক্ষের নির্বাচনে অভিবাসন-বিরোধী একটি দল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাওয়ায়, ক্ষমতাসীন জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এরপর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির দিকে ঝুঁকছে সরকার।
বর্তমানে প্রায় ৪১,৬০০ বিদেশি নাগরিক ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা ভিসার অধীনে জাপানে অবস্থান করছেন, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি চীনা নাগরিক।
এই ভিসার মাধ্যমে জাপানে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বসবাসের সুযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে নবায়ন ও স্থায়ী বসবাসের আবেদন করাও সম্ভব। পরিবারকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি থাকায় এটি দীর্ঘমেয়াদে অনেকের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল।
নতুন শর্তাবলী কার্যকর হলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য জাপানে ব্যবসা শুরু করা আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসআর
মন্তব্য করুন: