গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমারে প্রখর কম্পনের আঘাতে ব্যাপক বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছে।
ভূমিকম্পটি, যা ইউএসজিএস অনুযায়ী ৭.৭ মাত্রায় পরিমাপ করা হয়েছিল, মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়।
এর কেন্দ্র মান্দালয় শহর থেকে প্রায় ১৭.২ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করেছিল।
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের তথ্যে,截至 রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ১৪৪ জনের মৃত্যু, ৭৩২ জনেরও বেশি আহত হওয়ার কথা জানা যায়। এ ঘটনায় নেপিডো, সাইগাইং ও মান্দালয়সহ ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
বিশেষভাবে মান্দালয় শহর, যা দেশের প্রাচীন বৌদ্ধধর্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে একাধিক ভবন ধসে পড়ার খবর মিলেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছিলেন, “ভয়ানক কম্পনে আমাদের সবাই বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তার ওপর অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছি।”
ভূমিকম্পের পরবর্তী ১২ মিনিটে ৬.৪ মাত্রার আফটারশকও অনুভূত হয়, যার ফলে কিছু স্থাপনা, সেতু ও রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে ইরাবতী নদীর উপর অবস্থিত একটি সেতুর পিলার পানির মধ্যে হেলে পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এর সাথে, থাইল্যান্ডেও প্রভাব পড়ে। ব্যাংককের কেন্দ্রে নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবনটি ধসে পড়ে, যার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১১৭ জন আটকা পড়ে যান বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য।
ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ব্যাংককের এক বাসিন্দা বলেছিলেন, “আমি যখন আমার অ্যাপার্টমেন্টে ছিলাম, হঠাৎ দেয়ালে ফাটল দেখা গেল এবং সুইমিংপুল থেকে পানি ঝরতে শুরু করলো। চারপাশে মানুষের চিৎকার শুনতে পেলাম।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, মিয়ানমারে চলমান সামরিক সংঘর্ষ এবং ত্রাণ সংকটের প্রেক্ষিতে এই ভূমিকম্প আরও মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক জো ফ্রিম্যান মন্তব্য করে জানান, “দেশটিতে ইতোমধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত, আর বর্তমানে ত্রাণ সহায়তার অবস্থা আরও সংকটময় হয়ে পড়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: