বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি-এর ২৯ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন নিয়ে আবারও মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) মেরিল্যান্ডে কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে (সিপিএসি) তিনি এই প্রসঙ্গ তোলেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য
সিপিএসির অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, "বাংলাদেশে ২৯ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে, যাতে তারা কট্টর বামপন্থীদের ভোট দিতে পারে।" মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস তার এই বক্তব্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প প্রায়ই বাইডেন প্রশাসনের সমালোচনায় "উগ্র বাম কমিউনিস্ট" শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে থাকেন।
বাংলাদেশে এই অর্থায়নের বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ১৫ ফেব্রুয়ারি। সে দিন ট্রাম্পের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকারি দক্ষতাবিষয়ক বিভাগ (ডিওজিই) জানিয়েছিল, বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে ইউএসএআইডির অর্থায়ন বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশে "স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ" নামে একটি প্রকল্পে এই অর্থ বরাদ্দ ছিল।
ট্রাম্পের সমালোচনা ও সন্দেহ
এরপর গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক বক্তব্যে ট্রাম্প আবার এই প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের রাজনীতি শক্তিশালী করতে ২৯ মিলিয়ন ডলার এমন একটি সংস্থার কাছে গেছে, যার নাম আগে কেউ শোনেনি। মাত্র দুজন কর্মী থাকা এই সংস্থা কীভাবে এত বড় অর্থ পেয়েছে?" তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, "তারা হয়তো খুব খুশি। কারণ, তারা খুব দ্রুত বড় কোনো বিজনেস সাময়িকীতে প্রতারণার জন্য স্থান পাবে।"
ইউএসএআইডি ও মার্কিন প্রশাসনের পরিবর্তন
এ বিষয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, ইউএসএআইডির কার্যক্রমে ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, "সংস্থাটির কর্মী সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের অফিসও দখলে নেওয়া হয়েছে।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমানো ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানোর বিষয়টি তার প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার হতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: