জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনসংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনসংক্রান্ত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে
এতে আন্দোলনকারী নারীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠে এসেছে।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারীদের বাধা দেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কিছু নারীকে বেআইনিভাবে আটক করা হয় এবং তাদের প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলন দমন করতে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। নারীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে তাদের বিরুদ্ধে হুমকি ও হয়রানি করা হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কিছু ক্ষেত্রে আন্দোলনকারী নারী ও শিশুদের আটক ও নির্যাতন করেছে। কিছু শিশুকে বেআইনিভাবে আটক রেখে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়।
প্রতিবেদনে একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারী নারীদের অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং তাদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
একটি ঘটনার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টের শুরুর দিকে ঢাকায় এক নারীকে আটক করে তার ফোন ও ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। পরে তার গায়ে হামলা চালানো হয় এবং তিনি শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হন।
আরেক ঘটনায়, এক নারী আন্দোলনকারী ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, ওই নারী পরবর্তীতে ফোনেও হুমকি পেয়েছিলেন।
কুমিল্লায়ও নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আন্দোলনরত দুই নারী শিক্ষার্থীকে আটক করে হয়রানি করা হয় এবং পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এসব সহিংসতার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এসআর
মন্তব্য করুন: