পরিষ্কার জ্বালানির খোঁজে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করল চীন। দেশটির সিচুয়ান প্রদেশের ইবিন শহরে সম্প্রতি সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে “এস২০০০ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার এয়ারবোর্ন উইন্ড এনার্জি সিস্টেম”। প্রথাগত
বায়ুকল বা উইন্ড টারবাইনকে মাটির খুঁটি থেকে মুক্ত করে বিশাল এক এয়ারশিপের সাহায্যে আকাশে উড়িয়ে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে।
বিশাল একটি সাদা এয়ারশিপের আদলে তৈরি এই এস২০০০-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ মিটার এবং প্রস্থ ও উচ্চতা ৪০ মিটারের মতো। এর ভেতরে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করে এটিকে আকাশে ভাসিয়ে রাখা হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
উচ্চতা ও গতি: মাত্র ৩০ মিনিটে এটি প্রায় ২ হাজার মিটার (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের কাছাকাছি) উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম।
বিদ্যুৎ উৎপাদন: পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে এটি ৩৮৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ তৈরি করেছে। প্রকৌশলীদের মতে, এর পূর্ণ সক্ষমতা ৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে।
সহজ সরবরাহ: আকাশে উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ একটি বিশেষ কেবলের মাধ্যমে সরাসরি নিচে নামিয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়।
ভূপৃষ্ঠের তুলনায় উচ্চ আকাশে বাতাসের গতিবেগ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল থাকে। এস২০০০ প্রযুক্তিটি মূলত এই শক্তিশালী বাতাসকে কাজে লাগিয়ে কম অবকাঠামো ব্যয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি। কর্মকর্তাদের দাবি, এই সিস্টেমের এক ঘণ্টার উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে অন্তত ৩০টি উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক গাড়ি পুরোপুরি চার্জ করা সম্ভব।
প্রযুক্তিটি বৈপ্লবিক হলেও এর বাণিজ্যিক ব্যবহারে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব, মাঝ আকাশে উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বীমা সংক্রান্ত আইনি জটিলতাগুলো সমাধান করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। তবে সিএনএন ও ইউরোনিউজের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই পরীক্ষাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে একটি বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে।
এসআর