রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ দ্রুজবা পাইপলাইন বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ মে থেকে এই সরবরাহ বন্ধ
হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কাজাখস্তান থেকে ইউরোপে আসা তেলের প্রবাহও ব্যাহত হবে।
জ্বালানি সংকট: এই পাইপলাইনটি জার্মানির পিসিকে (PCK) রিফাইনারির অপরিশোধিত তেলের ১৭ শতাংশ সরবরাহ করে। উল্লেখ্য, এই রিফাইনারিটি বার্লিনের প্রায় ৯০ শতাংশ গাড়ির জ্বালানি এবং বিমানবন্দরের কেরোসিন সরবরাহ করে।
অর্থনৈতিক ধাক্কা: জ্বালানি অনিশ্চয়তার কারণে জার্মানি তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশে নামিয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ২.৭ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূ-রাজনীতি: ইরান যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে এমনিতেই তেলের দাম চড়া। এর মধ্যে রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপে জেট ফুয়েলের মজুত দুই মাসেরও কম সময়ের জন্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান জরজেনসেনও সামনের দিনগুলোতে কঠিন সময়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জার্মানি রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানি শুরু করেছিল। তবে দ্রুজবা পাইপলাইনটি রাশিয়ার মধ্য দিয়ে আসায় পুতিনের এই নতুন সিদ্ধান্তে কাজাখস্তানের তেল সরবরাহও এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
এসআর