যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে বারবার সময়সীমা বা আলটিমেটাম দিয়েও তা কার্যকর না করা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তজনা
নিরসনে ট্রাম্প কয়েক দফা কঠোর হুমকি ও সময়সীমা বেঁধে দিলেও বাস্তবে সেগুলোর কোনো প্রয়োগ দেখা যায়নি।
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প অন্তত পাঁচবার ইরানকে বিভিন্ন শর্ত মানার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন:
২১ মার্চ: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দেন এবং ব্যর্থতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দেন। ২৩ মার্চ সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তা বাড়িয়ে ২৮ মার্চ করা হয়।
২৬ মার্চ: আবারো সময়সীমা বাড়িয়ে ৬ এপ্রিল করা হয়। ট্রাম্প দাবি করেন আলোচনা ভালো চলছে, যদিও ইরান সে দাবি নাকচ করে দেয়।
৬ এপ্রিল: কঠোর হুমকির মুখেও ইস্টার উৎসবের কারণ দেখিয়ে সময়সীমা একদিন বাড়ানো হয়।
৭ এপ্রিল: কোনো শর্ত পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
২১ এপ্রিল: ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য সময় বাড়িয়ে দেন এবং জানান যে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বারবার সময়সীমা পেছানোর কৌশল রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও দেখা গিয়েছিল। হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্প "ফাঁকা হুমকি" দেন না বলে দাবি করা হলেও বর্তমানে ইরান মনে করতে পারে যে ট্রাম্প তার হুমকি বাস্তবায়নে আগ্রহী নন।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, একসময় ট্রাম্প নিজেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সিরিয়া ইস্যুতে "রেড লাইন" কার্যকর না করার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি বলেছিলেন যে, হুমকি দিয়ে তা কার্যকর না করা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। এখন ট্রাম্পের বর্তমান নীতিও অনেকটা একই পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিস্থিতির জন্য ইতিবাচক হলেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এসআর