মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)
থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে জাহাজটি বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দরের কাছে অবস্থান করছে।
জাহাজটি আটকা পড়ার মূল কারণ এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
কূটনৈতিক সূত্র এবং বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনড় অবস্থানের পেছনে বড় কারণ হলো সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি:
বিবৃতি নিয়ে অসন্তুষ্টি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে হামলার সরাসরি নিন্দা না জানানো এবং হামলাকারীদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) নাম উল্লেখ না করায় তেহরান ক্ষুব্ধ হয়েছে।
কূটনৈতিক শীতলতা: খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশে বিলম্ব এবং দূতাবাসে যথাযথ পর্যায়ে শোক বইতে স্বাক্ষর না করার বিষয়টিকেও নেতিবাচকভাবে নিয়েছে ইরান। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী প্রকাশ্যে এ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
বারবার প্রত্যাখান: গত ১ এপ্রিল রাষ্ট্রদূত এবং মার্চে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আশ্বাসের পরেও দুই দফায় জাহাজটি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে পৌঁছালে ইরানি নৌবাহিনী জাহাজটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তৎপরতা: ১৯ এপ্রিল তুরস্কে এক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জাহাজটির নিরাপদ পারাপারে সহায়তা চেয়েছেন।
অন্যান্য জাহাজ: ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ছাড়াও অপরিশোধিত তেলবাহী আরেকটি জাহাজও একই কারণে আটকে আছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজটি সিঙ্গাপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে ভাড়ায় চলছে। এটি হরমুজ প্রণালি পার হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবানে যাওয়ার কথা ছিল।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, কূটনৈতিক চ্যানেলে জোর তৎপরতা চলছে এবং দ্রুতই জাহাজটি অনুমতি পাবে বলে তারা আশাবাদী।
এসআর