[email protected] বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
৯ বৈশাখ ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদে টান: অস্ত্র সংকটের ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৬ এএম

সংগৃহীত ছবি

ইরানের সাথে চলমান সাত সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদের প্রায় অর্ধেকই ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং সামরিক

 বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুযায়ী:

​প্রিসিশন স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র: মোট মজুদের প্রায় ৪৫ শতাংশ শেষ হয়ে গেছে।

​আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত 'থাড' (THAAD) এবং 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশই ব্যবহৃত হয়েছে।

​অন্যান্য: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ৩০ শতাংশ এবং দূরপাল্লার এসএম-৩ ও এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ শতাংশ খরচ হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র যে গতিতে অস্ত্র উৎপাদন করছে, তাতে এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করতে অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগবে। পেন্টাগন নতুন চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলেও যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো রসদ বর্তমানে থাকলেও, চীনের মতো শক্তিশালী কোনো দেশের সাথে নতুন করে বড় কোনো সংঘাতে জড়ানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যান্সিয়ান জানিয়েছেন, এই গোলাবারুদ সংকট প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

​পেন্টাগনের দাবি: পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে যেকোনো অভিযান চালানোর মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও অস্ত্রের ভান্ডার রয়েছে।

​প্রেসিডেন্টের অবস্থান: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্ত্র সংকটের কথা অস্বীকার করলেও ইরান যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষেপণাস্ত্র খাতের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছেন।

​উদ্বেগ: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানসহ সামরিক নেতারা এবং ডেমোক্রেটিক সিনেটররা এই গোলাবারুদ সংকট মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বব্যাপী মার্কিন প্রতিরক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

​সামগ্রিকভাবে, দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুদে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে যা পূরণ করতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর