মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালিতে সোমবার থেকে নৌ অবরোধ কার্যকর শুরু হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অবরোধের ফলে ইরানের প্রতিদিন প্রায় ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার
(বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫,৩৪৪ কোটি টাকার বেশি) অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল অঙ্কের ক্ষতির একটি বড় অংশ আসবে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি বন্ধ হওয়ার কারণে। হিসেব অনুযায়ী:
রপ্তানি খাতে ক্ষতি: প্রতিদিন প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের আয় কমে যেতে পারে।
পণ্য সরবরাহ: তেল ছাড়াও খাদ্য, সার এবং অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজার প্রভাব: এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ির ওপর। যদিও ইরান তাদের 'জাস্ক টার্মিনাল' ব্যবহার করে বিকল্প পথে তেল রপ্তানির চেষ্টা করতে পারে। কেপলারের তথ্যমতে, গত মার্চের শেষ দিকে ইরানের প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সমুদ্রের ওপর ভাসমান অবস্থায় ছিল, যা তাদের সাময়িকভাবে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
মার্কিন বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ সরাসরি স্থল যুদ্ধ না করেও ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র 'খার্গ দ্বীপ' দখলের সমান অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, এই পরিস্থিতির ফলে চীনও চাপের মুখে পড়বে, কারণ তাদের প্রয়োজনীয় তেলের একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে আসে।
অবরোধ ঘোষণা করা হলেও এটি কার্যকর করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হতে পারে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই। এছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ জাহাজ চলাচল করে, তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিকল্প জাহাজগুলোকে থামানো বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এসআর