দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পরও পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের পরমাণু প্রকল্পের
লাগাম টানতে বা দীর্ঘমেয়াদে অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সদিচ্ছা দেখায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জে ডি ভ্যান্স আলোচনার ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে ইরানের অনড় অবস্থানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন:
মৌলিক চাহিদা: যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার এবং দ্রুত অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দেয় এমন উপকরণ না খোঁজার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার দেয়।
সদিচ্ছার অভাব: ভ্যান্সের মতে, শুধু সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার যে মৌলিক ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন, তা ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে দেখা যায়নি।
এই ব্যর্থ সংলাপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েন:
ফেব্রুয়ারির ব্যর্থতা: গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন আলোচনার পরও কোনো চুক্তি হয়নি।
সামরিক অভিযান: সমঝোতা না হওয়ায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' এবং ইসরায়েল 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন' শুরু করে।
যুদ্ধবিরতি ও সংলাপ: সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে গত ৭ এপ্রিল দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পুনরায় ইসলামাবাদে সংলাপে বসে দুই পক্ষ।
টানা ২১ ঘণ্টার এই আলোচনার টেবিলে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই ছাড় না দেওয়ায় সংকটের সমাধান মেলেনি। মার্কিন প্রতিনিধিদল এখন ইসলামাবাদ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এসআর