ইরানের সঙ্গে চলমান আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সব ধরনের যুদ্ধাস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশটির
সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা মার্কিন কোনো কোম্পানিকে অস্ত্র রপ্তানির নতুন লাইসেন্স প্রদান করবে না। মূলত নিজেদের দীর্ঘদিনের ‘নিরপেক্ষতার নীতি’ বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের এই দেশটি।
সুইস ফেডারেল আইন অনুযায়ী, মানবাধিকার ও নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে যুদ্ধরত কোনো দেশে সরাসরি সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো নিষিদ্ধ। এই আইনের ওপর ভিত্তি করেই সুইজারল্যান্ড গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো নতুন রপ্তানি লাইসেন্স ইস্যু করেনি। এছাড়া গত সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ফ্লাইটের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের দুটি অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও সুইজারল্যান্ড একই ধরনের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছিল।
সরকারি তথ্যমতে, গত বছর সুইজারল্যান্ডের অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১৯ মিলিয়ন ডলার। বর্তমান স্থগিতাদেশের ফলে বিদ্যমান লাইসেন্সগুলো এখন বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা নিয়মিত পর্যালোচনার আওতায় থাকবে। ইসরায়েল ও ইরানের ক্ষেত্রেও গত কয়েক বছর ধরে দেশটির কোনো চূড়ান্ত রপ্তানি লাইসেন্স নেই। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে, যার প্রতিফলন হিসেবে সুইজারল্যান্ডের এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: