[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
৪ চৈত্র ১৪৩২

ইরানের যা কিছু ‘অবশিষ্ট’ তা-ও শেষ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে লক্ষ্য করে আবারও তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন

তিনি বলেছেন, ইরানের হাতে যা কিছু অবশিষ্ট রয়েছে, প্রয়োজন হলে সেটিও ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ নিয়ে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন তিনি।


বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে এটি ব্যবহারের দায়ভার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।


ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানবিরোধী অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব দেশ প্রকাশ্যে আসছে না, তাদের ওপর চাপ বাড়াতেই এমন কৌশল বিবেচনায় রয়েছে। এতে করে ‘নিষ্ক্রিয় মিত্ররা’ দ্রুত অবস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রভাব পড়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, যদিও ইরান দাবি করে—প্রণালিটি এখনো পুরোপুরি বন্ধ নয়।


তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজ নিরাপদে পার হতে দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে একাধিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। সাম্প্রতিক হিসাবে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের বেশি ছাড়িয়েছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।


এ পরিস্থিতিতে হরমুজ অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্রাম্প ন্যাটো মিত্র ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর বড় অংশ এবং জাপান-অস্ট্রেলিয়ার মতো মিত্ররা এতে সাড়া দেয়নি। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ উপকূলবর্তী এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হচ্ছে।


আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে আরও বড় প্রভাব পড়তে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর