ডিজিটাল জালিয়াতি ও বৈশ্বিক প্রতারণা মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে দেশে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল স্ক্যাম ও প্রতারণার ঘটনায় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা-তে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
সোমবার (১৬ মার্চ) আয়োজিত ওই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট অনিয়মের কারণে দেশে উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে প্রতারণার ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তিগত সমাধান এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক সংস্থা Global Financial Integrity-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ট্রেড মিস-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক অর্থনৈতিক অপরাধ বা ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ মোকাবিলায় ১৮৬০ সালের প্রচলিত দণ্ডবিধি পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে বিদ্যমান আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সম্মেলনে জানান।
বৈশ্বিক প্রতারণা ও জালিয়াতি প্রতিরোধে চারটি প্রস্তাবও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে গবেষণা জোরদার করা, দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা।
পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে সালাহউদ্দ্দিন আহমদ বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
তবে প্রতারণা যেহেতু অনেক সময় আন্তর্জাতিকভাবে সংঘটিত হয়, তাই আন্তসীমান্ত সহযোগিতা ছাড়া এর কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। দুই দিনের সফর শেষে দেশে ফেরার কথা রয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
এসআর
মন্তব্য করুন: