[email protected] শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মিত্রদের পতনে পুতিনের অবস্থান: গাদ্দাফি থেকে খামেনি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬ ২:৫১ পিএম

সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতিক্রিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি

 ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর পুতিন একে 'মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করলেও সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি।

এমনকি ইরানের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো শোকবার্তাতেও তিনি নীরব ছিলেন। অথচ অতীতে মিত্র দেশগুলোর সরকার পতন বা নেতাদের মৃত্যুতে পুতিনকে অনেক বেশি সোচ্চার ও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা যেত।

​২০১১ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মৃত্যুর পর পুতিন অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। সে সময় তিনি সরাসরি মার্কিন ড্রোন হামলা এবং বিদেশি স্পেশাল ফোর্সের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

একইভাবে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হলে পুতিন প্রকাশ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর নাম ধরে তোপ দেগেছিলেন এবং ইয়ানুকোভিচকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে সরাসরি সহায়তা করেছিলেন।

​বিবিসির এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পুতিনের বিবৃতিতে এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আগের তুলনায় বর্তমান সময়ে মিত্রদের বিপদে তিনি অনেকটা কৌশলী ও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

২০২৫ সালে ইরানের সাথে রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি থাকলেও সেখানে সামরিক সহায়তার কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত ছিল না। খামেনির মৃত্যুর পর পুতিনের এই 'পরিমিত' প্রতিক্রিয়া এবং সরাসরি দায় নির্ধারণ থেকে বিরত থাকা আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার পরিবর্তিত পররাষ্ট্রনীতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর