[email protected] শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনি কে নিহতের দাবি

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬ ১:২৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন- এমন দাবি করেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই অত্যন্ত গোপন ও পরিকল্পিত অভিযানে খামেনিসহ দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েক ডজন নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনিকে লক্ষ্য করে ‘ব্লু স্প্যারো’ নামের একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা এই ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে মহাশূন্যে উঠে পরে আবার পৃথিবীতে ফিরে এসে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার ২৪০ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ধ্বংসাবশেষ ইরাকের পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত গিয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।


জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এ হামলা চালানো হয়। ওই দিনটি ইসরায়েলে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বাহিনীর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতির আড়ালেই আকস্মিক হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।


ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক কর্মকর্তা জানান, হামলার আগে এমন কিছু ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয় যাতে মনে হয় শীর্ষ কর্মকর্তারা ‘সাবাত ডিনার’-এর জন্য বাসায় চলে গেছেন। কিন্তু বাস্তবে তারা ছদ্মবেশে আবার সদর দপ্তরে ফিরে গিয়ে অভিযানের প্রস্তুতি নেন।


অন্যদিকে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রথমে রাতের বেলায় হামলার পরিকল্পনা করা হলেও পরে সময় পরিবর্তন করা হয়। কারণ

গোয়েন্দারা জানতে পারেন, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা শনিবার সকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন।


ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের পাস্তুর স্ট্রিটে অবস্থিত খামেনির কম্পাউন্ডের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল।

সেখানে স্থাপন করা নজরদারি ক্যামেরা ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


স্থানীয় সময় শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর এফ-১৫সহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান থেকে ‘ব্লু স্প্যারো’সহ প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যা সরাসরি খামেনির কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে আঘাত হানে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ব্লু স্প্যারো’ ক্ষেপণাস্ত্রটি সোভিয়েত যুগের ‘স্কাড’ প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি উন্নত সংস্করণ। এটি আকাশে উঠে পুনরায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সময় অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসে, ফলে মাঝপথে প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।


প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় খামেনির কম্পাউন্ড এলাকার কয়েকটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে আগাম কোনো সতর্কতা পৌঁছাতে না পারে।


ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিযানে খামেনি ছাড়াও ইরানের ৪০ জনের বেশি শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আব্দুর রহিম মুসাভির নামও উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর