মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় তেল শোধনাগারগুলোকে সাময়িকভাবে ডিজেল ও পেট্রল রপ্তানি স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে চীন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্লুমবার্গ নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের শীর্ষ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সংস্থা 'ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন' (এনডিআরসি) শোধনাগারগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে এই মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এশীয় দেশগুলোর মতো চীনও এই রুটের ওপর প্রবলভাবে নির্ভরশীল।
আমদানিতে প্রভাব: গত বছর চীনের সমুদ্রপথে আসা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৫৭ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় নিজস্ব মজুত ঠিক রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেইজিং।
তাতক্ষণিক কার্যকারিতা: নতুন কোনো রপ্তানি চুক্তি না করতে এবং ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হওয়া চালানগুলো বাতিলের বিষয়ে আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনের বড় তেল উৎপাদনকারী ও শোধনাগার কোম্পানি—পেট্রোচায়না, সিনোপেক, সিএনওওসি, সিনোকেম গ্রুপ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঝেজিয়াং পেট্রোকেমিক্যালকে এই নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোম্পানিগুলো বা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল শোধনাগার দেশ হিসেবে চীনের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: