যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণ
দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের মুখে দাঁড়িয়ে। এই সংকটময় মুহূর্তে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে পরবর্তী উত্তরসূরি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
নেতৃত্ব নির্বাচনে 'বিশেষজ্ঞ পরিষদ'
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের মূল দায়িত্ব পালন করে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’।
এটি ৮৮ জন উচ্চপদস্থ ইসলামি আইনজ্ঞ ও আলেমদের নিয়ে গঠিত একটি পরিষদ।
এই পরিষদের সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৮ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
সংবিধানের ১০৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন নেতা নির্বাচন বা বর্তমান নেতাকে অপসারণের ক্ষমতা এই পরিষদের হাতে ন্যস্ত।
নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার দপ্তরের দৈনন্দিন কাজ তদারকির জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে রয়েছেন:
ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
বিচার বিভাগের প্রধান।
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জ্যেষ্ঠ আলেম।
নির্বাচন পদ্ধতি ও যোগ্যতার মানদণ্ড
একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট গুণের অধিকারী হতে হবে:
ধর্মীয় পাণ্ডিত্য: তাকে একজন উচ্চপর্যায়ের ইসলামি আইনজ্ঞ হতে হবে।
প্রশাসনিক দক্ষতা: রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে সুগভীর জ্ঞান এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।
গোপনীয়তা: চূড়ান্ত নির্বাচনের আগে পরিষদ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রার্থীদের যোগ্যতা মূল্যায়ন করে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও উত্তরাধিকারের জল্পনা
১৯৮৯ সালে আলী খামেনি যখন নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন প্রতিষ্ঠাতা খোমেনীর ব্যক্তিগত সুপারিশ ও খামেনির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রেখেছিল।
তবে বর্তমানে কোনো একক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম সরাসরি উঠে আসছে না। যদিও আন্তর্জাতিক মহলে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নাম শোনা যাচ্ছে, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে তিনি বর্তমানে এই পদের দৌড়ে নেই। সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে উত্তরসূরি ভাবা হলেও ২০২৪ সালের মে মাসে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান।
এসআর
মন্তব্য করুন: