ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের সাথে
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানের সাথে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো এখন আগের চেয়ে "অনেক সহজ" বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১ মার্চ) সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। খবর আল জাজিরা-র।
ট্রাম্পের অবস্থান ও কূটনৈতিক যুক্তি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের ফলে ইরান বর্তমানে অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে এবং তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, “স্পষ্টতই বিষয়টি এখন একদিন আগের চেয়ে অনেক সহজ। কারণ তারা এখন ভয়াবহভাবে চাপে আছে।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলার যে শঙ্কা ছিল, তার মাত্রা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম পাল্টা হামলা এর চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ শক্তিশালী হবে।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এক বছরের কম সময়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বড় হামলা। অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপই ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করবে।
এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সাবেক রাজপরিবারের উত্তরাধিকারী রেজা শাহ পাহলভি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানের মুক্তির সময় এসে গেছে।” তিনি ইরানের জনগণকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিধ্বংসী বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সপরিবারে নিহত হওয়ার খবর আজ সকালে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দেশটিতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ও ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
বর্তমানে ইরানে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া হিসেবে তিন সদস্যের একটি 'সাময়িক নেতৃত্ব পরিষদ' গঠন করা হয়েছে, যারা পরবর্তী স্থায়ী নেতা নির্বাচন পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: