ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজধানী
তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোর রাজপথে নেমে এসেছেন লাখ লাখ মানুষ। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় খামেনির সপরিবারে নিহত হওয়ার সংবাদটি আজ ভোরে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তেহরানের আজাদি স্কয়ার এবং গ্র্যান্ড মস্কের সামনে কালো পোশাক পরিহিত হাজার হাজার মানুষকে শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাদের অনেকের হাতে ছিল খামেনির ছবি এবং 'ইসলামিক বিপ্লব জিন্দাবাদ' সম্বলিত ব্যানার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, শোকাতুর জনতা তাদের নেতার বিয়োগে বিলাপ করছেন এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
শোকের পাশাপাশি তেহরানের কোনো কোনো অংশে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির পতনের খবরে কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উল্লাসের গুঞ্জন শোনা গেছে, তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কড়া পাহারার কারণে তা বড় কোনো রূপ নিতে পারেনি। অনেক এলাকায় মানুষ আকাশসীমা বন্ধ হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে বাজার ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন।
ইরানের রাস্তায় মানুষের এই ঢল সামাল দিতে এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারা দেশে ব্যাপক সামরিক ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জনগণকে শান্ত থাকার এবং সরকারের নির্দেশিত ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের আকাশসীমায় এখনো ড্রোন এবং যুদ্ধবিমানের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ইরান সরকার জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার জানাজার তারিখ ও স্থান খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে, যেখানে কয়েক মিলিয়ন মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: