পারদ চড়িয়ে ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)
দেশটির দক্ষিণ উপকূলে বড় ধরনের যুদ্ধ মহড়া শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই মহড়া শুরু হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর এই মহড়াটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কম্বাইন্ড ১৪০৪ (২০২৬)’। যদিও এর মূল কেন্দ্র ইরানের দক্ষিণ উপকূল, তবে দেশটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশেও সমান্তরাল মহড়া চলছে। এই মহড়ায় ব্যবহার করা হচ্ছে:
অত্যাধুনিক ড্রোন ও রকেট সিস্টেম।
স্থল-থেকে-সমুদ্রে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী কামান।
উভচর যান ও বিশেষায়িত নৌযান।
সাঁজোয়া যান ও বিশেষ কমান্ডো বাহিনী।
আইআরজিসির স্থলবাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ কারামি জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ‘হুমকির’ ওপর ভিত্তি করেই এই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মূলত ওয়াশিংটনের সাথে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তজনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির প্রেক্ষিতেই ইরান তাদের শক্তি প্রদর্শন করছে।
১. মার্কিন চাপ: ওমানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী ধাপের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
২. ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।
৩. ইরানের অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানালেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
গত সপ্তাহেই ইরানের নৌবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মহড়া চালিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মার্কিন রণতরী ইরান থেকে মাত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে, যা এই অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: