পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাঝেই ইরানে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র
সরকারবিরোধী আন্দোলন। রাজধানী তেহরানে গত রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও মিছিল করেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম (জেন-জি)।
সংবাদের মূল বিষয়বস্তু:
বিক্ষোভের কারণ: গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণ এবং সেই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শনিবার থেকে এই নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের ভূমিকা: আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেহরানের শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহালভির আমলের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন এবং রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুলছেন।
পাল্টা কর্মসূচি: সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিপরীতে ক্ষমতাসীন সরকারের সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশের ডাক দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
অর্থনৈতিক সংকট: যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের মুদ্রা 'রিয়াল' বর্তমানে বিশ্বের দুর্বলতম মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের শুরু করা আন্দোলনই এখন গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে।
হতাহতের ভয়াবহ পরিসংখ্যান:
বিগত কয়েক মাসের আন্দোলনে দমন-পীড়নের যে চিত্র উঠে এসেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
উৎস নিহতের আনুমানিক সংখ্যা
ইরান সরকার (অফিসিয়াল) ৩,০০০+ জন
মানবাধিকার সংস্থা (HRANA) ৭,০০০+ জন
বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্র প্রায় ১৫,০০০ জন
একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চাপ দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে।
এই দ্বিমুখী চাপের মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ এই বিক্ষোভ দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: