ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি
চেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার এই অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এতে দুই মিত্র দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
সংবাদের মূল বিষয়সমূহ:
অনুমতি প্রত্যাখ্যান: মার্কিন প্রশাসন দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার আন্তর্জাতিক আইন ও সংঘাতের দায়ভারের প্রশ্নে এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ক্ষোভ: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টেলিগ্রাফ' জানিয়েছে, ব্রিটেনের এই অনড় অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে ‘ভয়ংকর ও অস্থিতিশীল শাসন’ হিসেবে অভিহিত করে তা দমনে ব্রিটিশ ঘাঁটির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
আইনি জটিলতা: ২০০১ সালের ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র দেশের অভিযানে ব্রিটেন অংশ নিলে তার দায়ভার দেশটিকে নিতে হয়। তবে সুইন্ডনের ঘাঁটি থেকে হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আগাম তথ্য দিতে বাধ্য নয়—এমন শর্তে স্টার্মার সরকার ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি।
যুদ্ধপ্রস্তুতি: গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের শেষেই মার্কিন সেনারা হামলার জন্য ‘প্রস্তুত’ বলে দাবি করেছে সিএনএন ও সিবিএস নিউজ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একটি চুক্তিতে আসার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যদিকে, ব্রিটেন সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছা প্রকাশ করায় মার্কিন পরিকল্পনা কিছুটা বাধার মুখে পড়েছে। তবে ইরান সীমান্তে মার্কিন যুদ্ধবিমানের আনাগোনা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান: নিজেদের অজান্তে বা আগাম তথ্য ছাড়া কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংঘাতের দায়ভার নিতে চায় না কিয়ার স্টার্মারের সরকার।
এসআর
মন্তব্য করুন: