[email protected] শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৮ ফাল্গুন ১৪৩২

জুলাই সনদ ও গণভোট-পরবর্তী বাংলাদেশ: নতুন মেরুকরণ ও রাজনৈতিক সংকটের আভাস

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৪ এএম

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত জাতীয় গণভোট এবং সংসদ

 নির্বাচন শেষ হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন সংকটের কালো মেঘ দেখা দিচ্ছে। 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫'-এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া মতভেদ দেশের স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।


​গণভোটের ফলাফল ও বিরোধের সূত্রপাত
​গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার সাংবিধানিক সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

কিন্তু এই সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে নবনির্বাচিত দল বিএনপি এবং তাদের একসময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আদর্শিক ও পদ্ধতিগত বিরোধ দেখা দিয়েছে।

​দ্বিতীয় শপথ নিতে অস্বীকৃতি: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিএনপির সদস্যরা 'সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল'-এর সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বার শপথ নিতে অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, নির্বাচিত সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার আগে এই কাউন্সিলের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।


​সংসদের উচ্চকক্ষ ও নির্বাচন পদ্ধতি: জুলাই সনদে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটি চায় এটি 'আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব' পদ্ধতিতে হোক। অন্যদিকে, বিএনপি বর্তমান 'সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভিত্তিক' পদ্ধতি বজায় রাখার পক্ষে।

​শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা এই সনদে ৮০টিরও বেশি সংস্কার প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:


১. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্দিষ্ট করা।
২. বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৩. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পরিধি বৃদ্ধি করা।
৪. ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন।


​বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
​আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, এই সংস্কারগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে।

কিন্তু বিএনপির স্থায়ি কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তারা সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অন্যদিকে, জামায়াত ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মতে, বিএনপির এই অবস্থান সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি কৌশল।


​বিশ্লেষকদের মত: বড় দলগুলোর এই ক্ষমতার লড়াই যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর