[email protected] সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পরমাণু সমঝোতায় রাজি ইরান

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৬:৪৪ পিএম

পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিরসনে এবং ধসে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এক বড়

 ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের ওপর থেকে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে, তবে ইরান তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আপস করতে প্রস্তুত।

​মাজিদ তাখত-রাভানচি সাক্ষাৎকারে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন:


​নিষেধাজ্ঞা বনাম ইউরেনিয়াম: ইরান তাদের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলতে রাজি হতে পারে, যদি ওয়াশিংটন ইরানের ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের ওপর থেকে ‘পঙ্গু করে দেওয়া’ নিষেধাজ্ঞাগুলো সরিয়ে নেয়।


​শূন্য সমৃদ্ধকরণে অসম্মতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ (Zero Enrichment) বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার দাবিকে ইরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এটি আর আলোচনার টেবিলে নেই।


​মজুত দেশের বাইরে পাঠানো: প্রায় ৪০০ কেজির বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি এই শীর্ষ কূটনীতিক। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘আন্তরিকতা’ ও ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ দেখতে চায় তেহরান।

​ওমানে প্রাথমিক আলোচনার পর আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর এটিই প্রথম বড় ধরনের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

​যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও ইরান এই দাবি অস্বীকার করে এটিকে বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করে আসছে। বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের অত্যন্ত কাছাকাছি।


​অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ‘চুক্তি অথবা কঠোর ব্যবস্থা’—এই নীতিতে অটল রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের মাধ্যমে তেহরানের ওপর সামরিক চাপও বাড়ানো হয়েছে।

​মাজিদ তাখত-রাভানচি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা যদি আন্তরিকভাবে চুক্তি করতে চায়, তবে আমরা সমাধানের পথেই আছি।" তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনার টেবিলে কেবল পারমাণবিক বিষয়ই থাকবে; ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক নীতি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর