মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই ইরানে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনারা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের সম্ভাব্য হামলা হবে নজিরবিহীন ও দীর্ঘস্থায়ী। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কেবল সাধারণ সংঘাত নয়, বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামো লক্ষ্য করে একটি সুপরিকল্পিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান হতে পারে। এর আগে মূলত পরমাণু স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও, এবারের পরিকল্পনার পরিধি অনেক বড়।
এমন এক সময়ে এই হামলার খবর ফাঁস হলো যখন দুই দেশের মধ্যে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
আগামী মঙ্গলবার জেনেভায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড কুশনারের সাথে ইরানি প্রতিনিধিদের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সামরিক প্রস্তুতির এই খবর সেই আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ফ্লোরিডার ফোর্ট ব্র্যাগ-এ সেনাদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, ইরানে "শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই হতে পারে সেরা সমাধান।" তিনি মধ্যপ্রাচ্যে অচিরেই "অসাধারণ ক্ষমতা" প্রদর্শনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া চাপ বজায় রাখতে পেন্টাগন ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ পাঠিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও শর্তসাপেক্ষে তা বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করুক, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ রয়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তাদের সেনারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং ইরানি পাল্টা জবাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: