ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তার মিত্রদের নিরঙ্কুশ জয়ের খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বের
সঙ্গে প্রচার করছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। যমুনা টিভিসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স এবং এনডিটিভির মতো সংবাদমাধ্যমগুলো বিএনপির এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম ও বিশ্লেষণ
আল জাজিরা: কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি ‘২১১ আসনে জয়, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত বিএনপি ও জোটের’ শিরোনামে লাইভ আপডেট প্রচার করছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠনের পথ সুগম করেছে।
রয়টার্স: ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এটি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিজয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে পাওয়া ১৯৩টি আসনের রেকর্ড ভেঙে এবার দলটি ২০০-এর বেশি আসনে জয় পেয়েছে।
বিবিসি: ‘ছাত্র আন্দোলনের পর প্রথম নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল বিএনপি’—এই শিরোনামে বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী প্রথম নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু পরবর্তী শোকাতুর পরিবেশে বিএনপির দোয়া মাহফিলের খবরটিও তারা প্রচার করেছে।
দ্য ডন: পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, এই বিজয় দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। তারা এই নির্বাচনকে ২০২৪ সালের ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পরবর্তী প্রথম জাতীয় ভোট হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এনডিটিভি: ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই জয়কে ‘ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং তারেক রহমানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
বিজয় মিছিলে নিষেধাজ্ঞা ও দোয়া কর্মসূচি
বেসরকারি ফলাফলে বিশাল জয় পাওয়ার পর বিএনপি দেশব্যাপী আনন্দ মিছিল বা উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশবাসীর কল্যাণ কামনায় আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশব্যাপী দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
একনজরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাব (২৮৭ আসন অনুযায়ী):
বিএনপি ও জোট: ২১১ - ২১৩টি আসন
জামায়াতে ইসলামী জোট: ৬৮ - ৭০টি আসন
অন্যান্য ও স্বতন্ত্র: ৬টি আসন
এসআর
মন্তব্য করুন: