দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক বরফ গলার পর এবার সিরিয়ার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড়
ধরনের বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে এলো সৌদি আরব। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দামেস্কের পিপলস প্যালেসে দুই দেশের মধ্যে ৫.৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল) মূল্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তির মূল ক্ষেত্রসমূহ:
স্বাক্ষরিত এই চুক্তিগুলো মূলত সিরিয়ার অবকাঠামো ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সাথে সরাসরি যুক্ত। প্রধান খাতগুলো হলো:
বিমান চলাচল: আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনা এবং ‘নাস সিরিয়া’ নামে একটি নতুন সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা গঠন।
টেলিযোগাযোগ: ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং সিরিয়াকে আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রানজিট করিডর হিসেবে গড়ে তোলা।
পানি ও বিদ্যুৎ: পানি বিশুদ্ধকরণ, স্থানান্তর ব্যবস্থা এবং সিরিয়ান কেবলস কোম্পানির আধুনিকায়ন।
প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান: কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন।
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:
খালিদ আল-ফালিহ (সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী): তিনি জানান, সৌদি আরব সিরিয়ার স্থীতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পাশে রয়েছে। বড় প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ‘এলাফ ফান্ড’ গঠন এবং দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
আহমেদ আল-শারা (সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট): এই চুক্তিগুলোকে দুই দেশের মধ্যে নতুন এক অংশীদারত্বের সূচনা হিসেবে দেখছেন তিনি।
বিনিয়োগের বিশাল অংক:
সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রীর তথ্যমতে, আজকের ৫.৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ছাড়াও আগে আরও প্রায় ৪০ বিলিয়ন রিয়ালের সমঝোতা হয়েছে। সব মিলিয়ে সিরিয়ায় মোট সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলারে (৬০ বিলিয়ন রিয়াল)।
সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ ও যোগাযোগমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-স্বাহার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য দামেস্ক সফর করেন। একে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্যে ফেরার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: