রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই অর্থাৎ জুনের
মধ্যে শেষ করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিংটনের এই নতুন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, হোয়াইট হাউস কিয়েভ ও মস্কোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। এই লক্ষে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে অংশ নিতে কিয়েভ ইতিমধ্যেই সম্মতি দিয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, ‘‘আমেরিকানরা চাচ্ছে গ্রীষ্ম আসার আগেই একটি চূড়ান্ত সমাধান। তারা সম্ভবত এই সময়সূচি বজায় রাখতে উভয় পক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের কাছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কংগ্রেস নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই তারা জুনের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া শেষ করতে আগ্রহী।’
আলোচনার মূল বিষয়গুলো:
মিয়ামি বৈঠক: আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ামিতে শান্তি আলোচনার নতুন দফার প্রস্তাব।
বন্দি বিনিময়: সম্প্রতি আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় বড় অগ্রগতি না হলেও, উভয় পক্ষ ১৫৭ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছে।
নিরাপত্তা ও পুনর্গঠন: যুদ্ধ পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠনের জন্য 'সমৃদ্ধির পরিকল্পনা' (Prosperity Plan) নিয়ে কারিগরি আলোচনা চলছে।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রস্তাব: রাশিয়ার বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বড় অংকের (প্রায় ১২ ট্রিলিয়ন ডলার) একটি সহযোগিতা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, এমন কোনো চুক্তি ইউক্রেনের সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী সময়ে শান্তি আলোচনার এই তোড়জোড় যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। যদিও দোনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের রাশিয়ার দাবি এখনো বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: