দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন-তেহরান
সম্পর্ক। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার শুরুতেই নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মূল আলোচনার বিষয়বস্তু:
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর তথ্যমতে, এবারের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। পূর্বে ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন সীমিত করা এবং আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীগুলোকে সহায়তা বন্ধের শর্ত দিলেও, ইরানের অনড় অবস্থানের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সেই শর্তগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে মাস্কাটের এই বৈঠকটি এখন শুধুমাত্র পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্রিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ রয়েছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা:
সূত্রমতে, সৌদি আরব, কাতার এবং ওমানের মতো প্রভাবশালী আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে এই শর্ত শিথিলের বিষয়ে প্রভাবিত করেছে। দেশগুলোর যুক্তি ছিল:
শর্ত না মানলে ইরান সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধের পথে হাঁটতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের সাথে এই মুহূর্তে একটি সমঝোতা জরুরি।
ইরানের ওপর কোনো বড় হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
বৈঠকের পরিস্থিতি:
অংশগ্রহণকারী: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ।
পদ্ধতি: তারা সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা না করলেও ওমানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষভাবে নিজেদের দাবি ও প্রস্তাবনা পেশ করছেন।
সম্ভাবনা: যদিও ইরান বর্তমানে কঠোর ভাষায় কথা বলছে, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, শেষ পর্যন্ত একটি কার্যকর চুক্তির মাধ্যমে তারা পরমাণু কর্মসূচি থেকে আংশিক সরে আসতে পারে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে শর্ত প্রত্যাহারের কথা এখনও নিশ্চিত করেনি, তবে আলোচনার টেবিল থেকে মিসাইল ও প্রক্সি ইস্যু বাদ পড়া একটি বড় কূটনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: