[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রাশিয়ার নজিরবিহীন হামলা: ৪৫০ ড্রোন ও ৭০ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৯:৪১ এএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের ইতিহাসে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে

 সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। তীব্র শীতের মৌসুমে দেশটির পাঁচটি অঞ্চলের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।


​হামলার ভয়াবহতা
​ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক টেলিগ্রাম বার্তায় জানান, গত সোমবার রুশ বাহিনী অন্তত ৪৫০টি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এবং ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালায়। তিনি অভিযোগ করেন, মাইনাস ১৬ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলতেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে অচল করার এই কৌশল নিয়েছে মস্কো।


​ইউক্রেনের বৃহত্তম বেসরকারি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটেক (DTEK) এই হামলাকে চলতি বছরের সবচাইতে বড় আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছে। হামলায় প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
​হামলার প্রেক্ষাপট ও সময়কাল
​এই হামলার পেছনে দুটি বিশেষ কারণ দেখছেন বিশ্লেষকরা:


​ন্যাটো মহাসচিবের সফর: সোমবার ন্যাটোর নতুন মহাসচিব মার্ক রুটে কিয়েভ সফরে গিয়েছিলেন। মূলত ইউক্রেনের প্রতি ন্যাটোর অবিচল সমর্থন প্রদর্শনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই রাশিয়া এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


​শান্তি আলোচনার অনিশ্চয়তা: হামলার সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধের অবসানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। এই হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।


​মানবিক সংকট
​বর্তমানে ইউক্রেনের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের অনেক নিচে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ হিটিং সিস্টেম বা ঘর গরম রাখার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলেনস্কি বলেন, "রাশিয়া কূটনীতির চেয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।"

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর