ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর এবার প্রতিবেশী দেশ কিউবার ওপর কঠোর
চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কিউবা যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা চুক্তিতে না আসে, তবে দেশটি অচিরেই এক ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখে পড়বে।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ও তেলের অবরোধ
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মূল লক্ষ্য কিউবার জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা।
নতুন বিধিমালা: কোনো দেশ যদি কিউবায় তেল রপ্তানি করে, তবে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।
উদ্দেশ্য: কিউবাকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ওয়াশিংটনের শর্ত অনুযায়ী চুক্তিতে আসতে বাধ্য করা।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ ও বর্তমান সংকট
ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, কিউবা দীর্ঘ সময় ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
মাদুরোর পতন: গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ মার্কিন অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকে কিউবায় তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমান অবস্থা: ট্রাম্পের দাবি, কিউবার কাছে এখন পর্যাপ্ত অর্থ বা জ্বালানি নেই, যা দেশটিকে চরম অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।
মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা ও মেক্সিকোর প্রতিক্রিয়া
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শিনবাউম এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের ফলে কিউবার হাসপাতাল, খাদ্য সরবরাহ ও জনসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।
এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, "মানবিক বিপর্যয় হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিউবা যদি আমাদের কাছে এসে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়, তবে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
অভিবাসন ও ‘পুশ ইন’ সতর্কতা
চুক্তি না হলে ট্রাম্প একটি নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যদি সমঝোতা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান নাগরিকদের বড় একটি অংশকে কিউবায় ফেরত পাঠানো (পুশ ইন) শুরু করা হতে পারে।
এই পদক্ষেপটি ট্রাম্প প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ল্যাটিন আমেরিকায় সমাজতান্ত্রিক প্রভাব কমিয়ে মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: