ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি নজিরবিহীনভাবে
বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক পারমাণবিক চালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর শক্তিশালী নৌবহর ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক তৎপরতাকে ‘সতর্কতামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বিশ্লেষকরা একে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন।
রণতরী ও সমরাস্ত্রের অবস্থান
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস ও সিএনএন জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ভারত মহাসাগরের এমন এক কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে যেখান থেকে অতি দ্রুত ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালানো সম্ভব।
মিসাইল ডেস্ট্রয়ার: রণতরীটির সঙ্গে রয়েছে একাধিক ডেস্ট্রয়ার জাহাজ, যা বিধ্বংসী তোমাহক মিসাইল দ্বারা সজ্জিত।
বিমান শক্তি: অঞ্চলে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বাড়তি প্যাট্রিয়ট এবং থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয়েছে।
ট্রাম্পের অবস্থান ও গোয়েন্দা তথ্য
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি আশা করেন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সব পথই খোলা আছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্পকে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে যে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর বর্তমান ইরান সরকার অভ্যন্তরীণভাবে সবচেয়ে নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলে মাত্র দুই থেকে তিন দিনের প্রস্তুতির মধ্যেই রণতরী থেকে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করা সম্ভব।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘আর্মাডা’ বা বিশাল নৌবহর মোতায়েনের জবাবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এর ‘উপযুক্ত ও অনুশোচনাপ্রসূত’ জবাব দেওয়া হবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: