যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ তুষারঝড় ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে
দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি এবং ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে চলা এই দুর্যোগে দেশটির অন্তত ২৫টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
মৃত্যুর মিছিল ও আক্রান্ত অঞ্চল
উত্তর মেরু থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে টেক্সাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরকানসাস, কানসাস, ম্যাসাচুসেটস এবং টেনেসিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিউইয়র্ক সিটি: শহরের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রচণ্ড ঠান্ডায় খোলা আকাশের নিচে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনা ও হাইপোথার্মিয়া: মৃতদের মধ্যে বড় একটি অংশ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তবে অনেকেরই মৃত্যু হয়েছে হাইপোথার্মিয়ায় (শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া)। হাইপোথার্মিয়ার ফলে তীব্র কাঁপুনি, পানিশূন্যতা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
বিপর্যস্ত জনজীবন
তুষারঝড়ের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা এখন পুরু বরফের স্তরে ঢাকা।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ঝড়ের কারণে গাছ উপড়ে ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে টেক্সাস থেকে ভার্জিনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।
ফ্লাইট বাতিল: পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, গত রোববার ও সোমবার মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
রেকর্ড তাপমাত্রা: অনেক জায়গায় তাপমাত্রা নেমে গেছে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাতের খবর পাওয়া গেছে ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কের মতো অঞ্চলগুলোতে।
পরবর্তী পূর্বাভাস
জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ের মূল কেন্দ্রটি আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে সরে গেলেও আর্কটিক থেকে আরও শীতল বায়ু প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েকদিন ভারী তুষারপাত ও হাড়কাঁপানো শীত অব্যাহত থাকতে পারে।
এসআর
মন্তব্য করুন: