যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) নিউইয়র্ক
সিটিতে বিশেষ করে ম্যানহাটন এলাকায় ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ, ব্রিজ ও টানেলে হঠাৎ চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের যাত্রীদের তল্লাশি করায় অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযানের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব:
ম্যানহাটন এড়িয়ে চলছেন চালকরা: আইসের মুখোমুখি হওয়ার ভয়ে বাংলাদেশিসহ এশীয় বংশোদ্ভূত ট্যাক্সি ও অ্যাপভিত্তিক গাড়িচালকেরা ম্যানহাটন এলাকায় যাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন।
গ্রিনকার্ড বা ওয়ার্ক পারমিট থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে অনেকেই কর্মবিরতি পালন করছেন।
কুইন্সে অভিযানের আশঙ্কা: সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে এই অভিযান কুইন্সসহ অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড বা বহিষ্কারাদেশ রয়েছে, তাদের তালিকা ধরে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
আইসের বক্তব্য: ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অভিযানগুলো সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কর্মস্থল বা স্কুলে নির্বিচারে অভিযান চালানো হচ্ছে না বলেও তারা দাবি করেছে।
'স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি' ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা:
নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন নিজেকে ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে। সিটি কর্তৃপক্ষের নীতি অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযানে সরাসরি সহযোগিতা করে না, যদি না কোনো গুরুতর অপরাধ বা আদালতের সুনির্দিষ্ট পরোয়ানা থাকে। সিটির পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও অভিবাসন মর্যাদা দেখা হয় না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর পরামর্শ:
উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অধিকার সংস্থা অভিবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তাদের প্রধান পরামর্শগুলো হলো:
১. প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সবসময় সাথে রাখা।
২. আইনি পরামর্শদাতার বা আইনজীবীর যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহে রাখা।
৩. আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রগুলোর সাথে যোগাযোগ করা।
সতর্কবার্তা: গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করুন এবং যথাযথ আইনি পথ অনুসরণ করুন।
এসআর
মন্তব্য করুন: