[email protected] শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৫ মাঘ ১৪৩২

২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম গরমের বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ৬:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সাল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ চারটি বছরের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে -এমন পূর্বাভাস দিয়েছে কানাডার সরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা।

দেশটির জলবায়ু বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ক্লাইমেটডাটা.সিএ-তে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলতি বছরটি নজিরবিহীন উষ্ণ বছরগুলোর কাতারে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়কাল (১৮৫০–১৯০০) বিবেচনায় ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ৩৫ থেকে ১ দশমিক ৫৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এতে প্রায় ১২ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করতে পারে।


গবেষকদের ভাষ্য, কয়লা, তেল ও গ্যাস ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল চালিকাশক্তি।

পাশাপাশি ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া ঘটনাও সাম্প্রতিক অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।


প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার এবং সম্ভব হলে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

যদিও কোনো একটি বছরে এই সীমা সাময়িকভাবে অতিক্রম করাকে চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয় না, তবুও বিজ্ঞানীরা এটিকে ভবিষ্যতের জন্য স্পষ্ট সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে তাপপ্রবাহ, খরা, দাবানল, অতিবৃষ্টি ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও মানুষের জীবনযাত্রায়।


এনভায়রনমেন্ট কানাডার পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকবে ২০২৬ সালেও।

এর ফলে এটি টানা ১৩তম বছর হতে যাচ্ছে, যখন পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমার ওপরে অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর