ট্রাম্পের হুমকির মধ্যেও অবস্থানে অটল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
ইরানে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভের মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধেই রূপ নিয়েছে।
দেশটির ৩১টি প্রদেশের বহু শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারি ভবন ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারকেন্দ্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে “স্বৈরাচারের পতন” ও খামেনিবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ একপর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, যা প্রায় ১২ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খামেনি বিক্ষোভকারীদের “নাশকতাকারী” আখ্যা দিয়ে বলেন, সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ইরানবিরোধী নীতির জন্য তিনি দায়ী এবং শেষ পর্যন্ত তাকেও উৎখাতের মুখোমুখি হতে হবে—এমন মন্তব্য করেন।
খামেনির বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরানে শাসন পরিবর্তনের দাবিতে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমন চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি। যদিও সাম্প্রতিক কিছু ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সরাসরি হামলা চালাতে দেখা যায়নি।
২০২২–২৩ সালের মাহসা আমিনি–কেন্দ্রিক আন্দোলনের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে নির্বাসিত সাবেক শাহর পুত্র রেজা পাহলভি জনগণকে আরও বড় সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণআন্দোলনের মাধ্যমেই দমনমূলক শাসন দুর্বল করা সম্ভব।
এসআর
মন্তব্য করুন: