যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও
জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিপণন ব্যবস্থাপনা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে। মার্কিন সিনেটে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, তেল খাতে অস্থিরতা ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পকে পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক ধাপ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পর্যায়ে কেবল মার্কিন সরকার বা তাদের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোই দেশটির তেল খাতে কাজ করার সুযোগ পাবে। অন্য কোনো দেশ বা কোম্পানিকে এখনই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, সংস্কার কার্যক্রম শেষ হলে দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে। তখন মার্কিন ও পশ্চিমা অন্যান্য দেশগুলোর কোম্পানিকে প্রতিযোগিতামূলক ও ন্যায্য শর্তে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হবে এবং সেখান থেকে তা আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হবে।
ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইআইএ-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশটির ভূগর্ভে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট মজুতের একটি বড় অংশ। তবে বিপুল সম্পদের তুলনায় দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল।
ভেনেজুয়েলার তেল সাধারণত ভারী ও ঘন প্রকৃতির হওয়ায় এর উত্তোলন ও পরিশোধনে বিশেষ প্রযুক্তি প্রয়োজন হয়। এই তেল পরিশোধন করে ডিজেল, অ্যাসফল্ট এবং ভারী শিল্পে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে কারাকাসে চালানো এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে রয়েছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগ এনেছে, যার বিচার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে চলবে।
এসআর
মন্তব্য করুন: